প্রত্যেক ফ্রেন্ডসার্কেলে এমন একজন ছেলে থাকে, যার কাজ হচ্ছে স্যাক্রিফাইস করা। ফ্রেন্ডের জন্য সবকিছু করতে রাজি,যে কোন ফ্রেন্ডের বিপদে সে সবার আগে দৌড়ে যাবে,কোন ফ্রেন্ডের ভালো সংবাদে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হবে ,সে যেন ব্যাপারটা তার নিজের। কোন ফ্রেন্ডের মন খারাপ হলে সে কাধ হাত দিয়ে বলবে "দোস্ত মন খারাপ করিস না আমি আছি তো নাকি?.সবসময় স্যক্রিফাইস করা এই ছেলেটার যখন নিজের প্রয়োজনে কারো স্যাক্রিফাইসের দরকার হবে,তখন লক্ষ্য করবে সে একা পাশে কেউ নাই..!
- প্রত্যেক ফ্রেন্ড সার্কেলেই আবার আরেকজন থাকে ,যে সব ফ্রেন্ডের হাসিতে থাকবে,কান্নাতে থাকবে প্রয়োজনে উপকার করবে কিন্তু নিজের স্বার্থের ব্যাপারে সে কখনো একচুলও ছাড় দিবে না।এমনকি পাচটাকার ছোলাবুট কিনে দুজনে মিলে ভাগাভাগি করে খেলে সেখানেও না!
- প্রত্যেক ফ্রেন্ড সার্কেলেই একজন জোকার থাকে,তার প্রধান কাজ হচ্ছে মজা আর হাসি সরবরাহ করা। সে না থাকলে আড্ডা জমে না,মজা হয় না, সবকিছু পানসে পানসে লাগে।সে না থাকলে তার খোজ নেয়া হয় সবার আগে!কোথায় সে?... সে কোন কারণে আসতে না চাইলে তাকে জোর করে ডেকে আনা হয়!আবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে তাকেই বাদ দেয়া হয় সবার আগে!
- সব ফ্রেন্ড সার্কেলেই একজন করে প্রেমিক পুরুষ থাকে,তার মাথায় সবসময় মেয়ে ঘুরে। তার পেছনেও মেয়ে ঘোরে,সেও মেয়ের পেছনে ঘোরে! এই ঘোরাঘুরিতে অনেক গল্প জমা হয়! গল্পগুলো আগ্রহ নিয়ে সে বন্ধুদের বলে, বন্ধুরাও অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে গল্প শোনে। মাঝে মধ্যেই হঠাত করেই কারো কারো মনে মনে এমন হতে ইচ্ছে হয় আবার কিছুক্ষণ পরেই মনে হয় লুচ্চা হওয়ার তো কোন মানে নাই!
- প্রত্যেক ফ্রেন্ড সার্কেলেই একজন থাকে ইম্পর্টেন্ট ওয়ান! ফ্রেন্ড সার্কেলের কন্ট্রোল থাকে তার হাতে। সবকিছুতে তার মতামতের গুরুত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। যেকোন প্ল্যান তার মাথা থেকে আসলে সেটা হয় সবার আগে, অন্য কারো মাথা থেকে ভালো কোন প্ল্যান আসলেও সে 'না' বললে সেটা হয় না। কিন্তু অনেক দুরের লম্বা পথে এই ইম্পর্ট্যান্ট ওয়ান কিভাবে জানি পিছিয়ে যায় সবার আগে!
- আবার সব ফ্রেন্ড সার্কেলেই থাকে একজন চুপচাপ ওয়ান,তার কাজ হচ্ছে চুপচাপ শোনা। সে কথা বলে কম খুব কম, কিন্তু মাঝেমধ্যে যে দু একটা কথা বলে সেগুলো হয় গভীর,সে গুলো হয় যৌক্তিক! আর এই ছেলেটাই ফ্রেন্ড সার্কেলের সবাইকে সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে!
- অদ্ভূত আলাদা আলাদা সব ছেলেরা একসাথে মিলে এক একটা ফ্রেন্ড সার্কেল হয়,অনেক স্মৃতি,হাসি,অভিমান নিয়ে গড়ে উঠা ফ্রেন্ড সার্কেলগুলো আবার নিয়ম মেনে ভেঙ্গেও যায়!অনেক অনেক দিন পর পুরনো কোন কোন বন্ধুদের দেখা হয়ে গেলে কেউ কেউ অচেনা মানুষের মত হয়ে যায় যেন একজনকে চেনা, মনে রাখা অনেক কষ্টের। আবার কেউ কেউ জাপটে ধরে বলে "আমি এখনো আছি রে!'
Post: Sagor Islam

Post a Comment